Sharing is caring!

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

 

ওমানে কর্মরত অবস্থায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইসহ তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বাড়ী নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়। তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার অকাল মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও সুবর্ণচরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের স্বজন জিয়া উদ্দিন ফারুক। এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু হয়। নিহতরা হচ্ছেন, সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যা ইউনিয়নের সাতাশদ্রোণ গ্রামের হাজী ফখরুল ইসলামের ছেলে মো. মোস্তফা (৫০), নূর হোসেন নাছির (৪০) ও একই উপজেলার খাসেরহাট বাজার সংলগ্ন আনছার মিয়ারহাট এলাকার বাহার উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫)।

 

জিয়া উদ্দিন ফারুক জানান, জীবিকার সন্ধানে গত ২০বছর আগে ওমানে যান মো মোস্তফা। এর প্রায় ৫বছর পর নিজের ছোট ভাই নাছিরকেও ওমানে নিয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে ইলেক্ট্রনিক মেস্ত্রি হিসেবে একই কোম্পানীতে চাকরি নেন মোস্তাফা ও নাছির। গত ৮বছর আগে একই উপজেলার আলমগীর হোসেন ওমানে যান। তারা তিনজন আল ওয়াফা শহরের একই কোম্পানীতে কাজ করার পাশাপাশি একই সাথে বসবাস করতো। প্রতিদিনের ন্যায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে তারা একটি কূপে বিদ্যুতের কাজ করতে যায়। প্রথমে আলমগীর হোসেন ওই কূপের মধ্যে নামেন। অনেক সময় পার হলেও সে বাহিরে না আসায় মোস্তফা কূপের ভিতরে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর কূপের ভিতর থেকে আলমগীর ও মোস্তফার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে নূর হোসেন নাছিরও কূপের ভিতর যান। পরে তাদের তিনজনের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে সহকর্মীরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসে অবগত করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে নিহত মোস্তফা, আলমগীর ও নাছিরের লাশ কূপ থেকে উদ্ধার করেন। বর্তমানের উনাদের লাশ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, নিহত মোস্তফা ও নাছিরের বড় ভাই ওমান প্রবাসী মো ইব্রাহিম মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মোবাইলের মাধ্যমে বাড়ীতে বিষয়টি জানান। কাজ করার সময় কূপের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তাদের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

এদিকে দুই ছেলেকে হারিয়ে মমূর্ষ অবস্থায় রয়েছেন হাজী ফখরুল ইসলাম। কান্না করতে করতে মুচ্ছা যাচ্ছেন মোস্তফার স্ত্রী মাহবুবা সুলতানা, দুই মেয়ে এক ছেলে, নাছিরের স্ত্রী কুলছুম বেগম, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। একই অবস্থায় অপর নিহত আলমগীরের বাড়ীতেও। নিহতদের পরিবারের লোকজন তাদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Sharing is caring!