Sharing is caring!

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

 

নোয়াখালীর প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র নিয়ে গঠিত বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভা। আগামী ৩০ জানুয়ারি এই পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচার প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পৌরসভার প্রতিটি অলিগলি। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পৌরসভার সবখানে। গত ১২জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারনায় নেমে পড়েন। মার্কা ও প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত পোষ্টার-ব্যানারে চেয়ে গেছে প্রতিটি পাড়া মহল্লা। বিভিন্ন সড়কের ওপরে দুপাশ করে লাগানো হয়েছে পোস্টার। মাঘের এ কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রার্থীগণ তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দারে দারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

 

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ৩৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সাল, বিএনপির মনোনীত ধানেরশীষ প্রার্থী ও পৌর বিএনপির সভাপতি জহির উদ্দিন হারুন, স্বতন্ত্র মোবাইল প্রার্থী মামুনুর রশিদ কিরন এমপির বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ্ (এম.কম) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. জাকের হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থীত একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে প্রতিটি ওয়ার্ডে।

 

সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৫ সালের ৩০ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত চৌমুহনী পৌর নির্বাচনের দিন গোলাগুলি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে ২০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছিল প্রশাসন। স্থগিত কেন্দ্রগুলোতে ৩বার পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘটনায় এবার নির্বাচনেও প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে চাপা আতংক বিরাজ করছে। পৌরসভাটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ হাজার ২৫৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২৮ হাজার ৫১৩ ও মহিলা ২৫ হাজার ৭৪১ জন। ৯টি ওয়ার্ডে রয়েছে ২০টি ভোট কেন্দ্র।

 

ভোটাররা জানান, পৌরসভাটিতে এবার আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে মেয়র পদে ত্রিমুখি লড়াই হবে। নতুন পুরাতন প্রার্থীর যোগ্যতা, আচার আচরন ও কর্মকান্ড নিয়ে হিসেব-নিকেশ কষচেন সচেতন ভোটাররা। চৌমুহনীসহ বেগমগঞ্জে আ.লীগ দীর্ঘদিনের কোন্দলে জর্জরিত। বর্তমানে আওয়ামী লীগ তিনটি গ্রুপে বিভক্ত। আর এসুযোগকে কৌশলে কাজে লাগাতে চাচ্ছে বিএনপি প্রার্থী।

 

আওয়ামী লীগ প্রার্থী আক্তার হোসেন ফয়সল জানান, তিনি গত দুই মেয়াদে মেয়র থাকাকালীন চৌমুহনীতে আধুনিক বাসটার্মিনাল, পৌরপার্ক, সড়ক পাকাকরন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অত্যাধুনিক মার্কেট নির্মান এবং চৌমুহনী পৌর এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড করেছি। পৌরসভার প্রায় ১৭০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরনের কাজ সম্পন্ন করেছেন। যা পৌরসভার নিজস্ব তহবিল ও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থে বিশেষ বরাদ্ধ থেকে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন হারুন বলেন, চৌমুহনী তথা পুরো বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দূর্গ। ৩০ জানুয়ারি ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারলে এবং অবাদ ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভে আশা করছেন।

 

স্বতন্ত্রপ্রার্থী (আ.লীগের বিদ্রোহী) বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (অবসরপ্রাপ্ত) খালেদ সাইফুলাহ (এম.কম) নিজেকে সৎ, যোগ্য প্রার্থী দাবী করে বলেন, তিনি গতদিন গুলোতে চৌমুহনী পৌরসভার নিরীহ অসহায়, মসজিদ-মাদ্রাসা ও স্কুল কলেজকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগীতা এবং দান অনুদান দিয়ে এসেছেন। সবসময় থেকে অসহায় মানুষের পাশে। নিজের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

 

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিমলেন্দু কিশোর পাল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কোন ধরনের অপিত্তিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণে জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Sharing is caring!