এনকে বার্তা ডেস্ক::

 

নতুন করোনাভাইরাস মহামারীর বিস্তার বাড়তে থাকায় লকডাউনের মধ্যেও শিথিল হয়ে পড়া রাজধানীর আগমন- বহির্গমন নিয়ন্ত্রণে ফের কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার দিন রোববার সকাল ৮টা থেকে প্রবেশমুখে তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।ডিএমপির মিরপুর বিভাগের (দারুস সালাম জোন) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে শুরুতে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এখন থেকে আবার সেই ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।কমিশনার স্যারের নির্দেশে সকাল ৮টা থেকে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যাতে কোনো ব্যক্তি একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকা শহরে প্রবেশ বা ঢাকা শহর থেকে বাইরে যেতে না পারেন সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

কোতয়ালী থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সকাল থেকে নয়াবাজার সেতুর কাছে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জরুরি সেবা ও পণ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া বাকিগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, ধউর সেতু ও আব্দুল্লাহপুরে ঢাকায় প্রবেশ পথে তল্লাশি চৌকি বাসানো হয়েছে।

যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও কেউ হেঁটে প্রবেশ বা বাহির হতে চাইলে তার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে এবং যুক্তিযুক্ত কারণ না দেখালে কাউকে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।তিনি বলেন, যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি যানবাহন চালালে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।নতুন এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনগণকে বাসায় থাকায় অনুরোধ জানায়। এই লকডাউনের মধ্যে কয়েকদফা বেড়ে ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি রয়েছে।এর মধ্যে রোজার কারণে ১০ মে থেকে লকডাউন শিথিল করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার সুযোগ দেওয়া হয়; স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদের নামাজও পড়ার সুযোগ দেওয়ার হয়।এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। রোববার এক দিনে রেকর্ড ১ হাজার ২৭৩ জনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ২৬৮ জন।

এদিকে, বাস ছাড়া এখন সড়কে সবই দেখা যাচ্ছে। টানছে যাত্রী। ঈদ সামনে রেখে বেড়েই চলছে মানুষের চলাচল। ঢাকার অন্যতম গেটওয়ে মাওয়া, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরচিা ঘাটে এখন ঢাকাগামী ও ঢাকা ছাড়ার ধুম দেখা যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব কেউ মানছেন না। হরদম ফেরি চললেও সেখানে জীবনুনাশক কোনো স্প্রে করতে দেখা যাচ্ছে না। বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। রাজধানীর ভেতরেও এখন যানজট বা ভিড়ভাট্টা লেগে গেছে।সরেজমিন মাওয়া ও কাঠালবাড়ি ফেরিঘাট ঘুরে দেখা গেছে, বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন উপায়ে ঘাট পর্যন্ত আসছে মানুষ। এরপর সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই গাদাগাদি করে চড়ছে ফেরিতে। বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও। একইভাবে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এবং রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে গত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে মানুষের চাপ।

বিআইডব্লিউটিএ-এর তথ্যমতে, মাওয়া কাঠালবাড়ি রুটে ১৭টি ফেরির মধ্যে ১২ থেকে ১৪টি এখন চলাচল করছে। এক সপ্তাহ আগে মাত্র ৬টি ফেরি চালু ছিল। এখন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ফেরির জন্য কখনও কখনও দীর্ঘ জট লেগে যাচ্ছে। যে জটে ফেরিপাড়ে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। আর ফেরিতে উঠতে নামতেও প্রতিযোগিতা। এখানে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে উঠানামা দেখা যাচ্ছে। হরদম এসব ফেরি চলছেই এতে পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত রাখার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফেরিতে বা গাড়িতে এখন আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির হাঁচি বা কাশি থেকে নির্গত ক্ষুদ্র কণাগুলো পড়ে থাকলে সেখান থেকে অন্য মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।

রাজধানী ঢাকাও বেড়েছে চলাচল। গণপরিবহনের মধ্যে বেশি চলছে সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল। দেখা যাচ্ছে, একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠতে গিয়ে দরজা খুলতে যে জায়গায় ধরতে হয় সেটি সবাই ধরছেন। এরকম লোহার মধ্যে অনেকের স্পর্শের ফলে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে চলা বেশকিছু মোটরসাইকেল এখন চুক্তিভিত্তিক চলছে। যেখনে দুজন পাশপাশি বসে যাচ্ছেন।এদিকে বাস না থাকায় পণ্য পরিবহনের গাড়িতে মানুষের চলাচল দেখা গেছে। বেশিরভাগ নিম্নবিত্তের মানুষ পণপরিবহনের গাড়িতে উঠছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয় গণপরিবহন বন্ধের নোটিশে-পণ্য পরিবহনের গাড়িতে মানুষের যাতায়াত করা যাবে না বলে জানিয়েছে।