Sharing is caring!

পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে বিব্রতর অবস্থা এড়াতে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জাসদ।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এর আগে একই দিন বিকেল চারটার দিকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বসনে জাসদের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল।

জাসদের ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন, দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর হোসাইন আখতার, মোশাররফ হোসেন ও রেজাউল করিম তানসেন।

প্রায় একঘন্টা আলোচনা হয়েছে জানিয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, সার্চ কমিটি সংবিধান মতে, অডিটরজেনারেলসহ সাংবিধানিক পদের লোক থাকতে পারে। নারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সার্চকমিটিতে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে৷ তবে কারো নাম প্রস্তাব করা হয়নি।

ইনু বলেন, যারা সংলাপে অংশ না নিয়ে নাটক বলছেন, তারা আসলে রাষ্ট্রপতির ভালো উদ্যোগকে বানচাল করতে চাচ্ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, সার্চ কমিটি দুজন করে প্রতি ইসির পদে নাম দেবে। রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে কমিশনার ঠিক করবেন।

ইসি গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সোমবার থেকে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রথম দিন এই সংলাপে অংশ নেয় জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। ইসি গঠনে আইন প্রণয়নসহ তিন দফা প্রস্তাব দেয়।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে এবার তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথমবার ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমান বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে ডাকেন। দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপ শুরু হয়। চলে ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। বঙ্গভবনে পর্যায়ক্রমে মোট ৩১টি দল এই সংলাপে অংশ নেয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচন কমিশন নিয়োগে আইন প্রণয়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠন করে গত দুই মেয়াদে ইসি গঠন করে আসছেন। আগের দুই বার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। দুই বারই সার্চ কমিটির প্রধান ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব।

Sharing is caring!