ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদককারবারি গ্রেফতার কালাইয়ে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘ’র্ষে নি’হ’ত-২, গুরুতর আহত-১ ত্রিশালে বাগান ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন তিলকপুরে যুবককে অপহরণ, জোর করে মাদকসেবন ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মামলা কমতে পারে তাপমাত্রা: আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আট বিভাগেই বৃষ্টির সম্ভাবনা ১৬২২২ নয়, এবারের এইচএসসির ফল জানা যাবে যে নম্বরে ঘরের মধ্যে বজ্রপাতে পাবনার সোনাপাতি বিলে ৬ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৬২

কবিরহাটে ছোটভাই হত্যায় বড় ভাইয়ের যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫২১৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামে ২০১০ সালে ছোটভাই সামছুদ্দিন ইলিয়াছকে হত্যার দায়ে বড় ভাই মোঃ ইউছুফ আলী ওরফে মানিককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ এ আদেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইউছুফ আলীর ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডও দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইউছুফ আলী পলাতক রয়েছেন। মামলার অপর চার আসামি মৃত মাহবুল হক ওরফে মাষ্টার, এনামুল হক ওরফে এনাম, মানিক ওরফে জামাই মানিক ও আবদুল করিমকে এ হত্যা মামলা থেকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সামছুদ্দিন ইলিয়াছ উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতেন। নিয়মিত মদ, গাঁজা সেবন করে পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতন থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তাকে একাধিকবার কারাগারে ও মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠিয়েও তার চারিত্রিক কোন পরিবর্তন ঘটেনি। এসব বিষয়ে ক্ষুব্দ হয়ে ছোট ভাই সামছুদ্দিন ইলিয়াছকে হত্যার পরিকল্পনা করে মাদকাসক্ত বড় ভাই মোঃ ইউছুফ আলী মানিক। বিগত ২০১০ সালের ১০ আগষ্ট দিবাগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ করে সামছুদ্দিন ইলিয়াছকে হত্যা করে তার বড় ভাই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মোঃ ইউছুফ আলী মানিক।

সূত্র জানায়, হত্যাকান্ডের পর পারিবারিকভাবে ডাকাতির ঘটনায় খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বলে ইউছুফ আলীসহ অন্যরা প্রচার করেন। এ কারণে পরিবারের কেউ এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে রাজি হননি। পরে কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রবিউল হক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ভাই ইউছুফ আলী ও মাহবুল হক ওরফে মাষ্টারকে গ্রেপ্তার করলে তাঁরা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

আদালতের ষ্টেনোগ্রাফার মাসুদ রানা বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একই থানার এসআই মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী মামলার তদন্ত শেষে চারজন আসামির বিরুদ্ধে একই বছরের ১২ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১৩ জন সাক্ষীকে পরীক্ষা করেন। দীর্ঘ শুনানী, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বড় ভাই মো. ইউছুফ আলী মানিককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অভিযোগপত্রভূক্ত একজন মৃতসহ বাকি তিন আসামিকে বেকুসুর খালাস দেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলী গুলজার আহমেদ জুয়েল। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালা করেন মো. আবদুল কাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কবিরহাটে ছোটভাই হত্যায় বড় ভাইয়ের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ১০:১৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামে ২০১০ সালে ছোটভাই সামছুদ্দিন ইলিয়াছকে হত্যার দায়ে বড় ভাই মোঃ ইউছুফ আলী ওরফে মানিককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ এ আদেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইউছুফ আলীর ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডও দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইউছুফ আলী পলাতক রয়েছেন। মামলার অপর চার আসামি মৃত মাহবুল হক ওরফে মাষ্টার, এনামুল হক ওরফে এনাম, মানিক ওরফে জামাই মানিক ও আবদুল করিমকে এ হত্যা মামলা থেকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সামছুদ্দিন ইলিয়াছ উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতেন। নিয়মিত মদ, গাঁজা সেবন করে পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতন থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তাকে একাধিকবার কারাগারে ও মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠিয়েও তার চারিত্রিক কোন পরিবর্তন ঘটেনি। এসব বিষয়ে ক্ষুব্দ হয়ে ছোট ভাই সামছুদ্দিন ইলিয়াছকে হত্যার পরিকল্পনা করে মাদকাসক্ত বড় ভাই মোঃ ইউছুফ আলী মানিক। বিগত ২০১০ সালের ১০ আগষ্ট দিবাগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ করে সামছুদ্দিন ইলিয়াছকে হত্যা করে তার বড় ভাই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মোঃ ইউছুফ আলী মানিক।

সূত্র জানায়, হত্যাকান্ডের পর পারিবারিকভাবে ডাকাতির ঘটনায় খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বলে ইউছুফ আলীসহ অন্যরা প্রচার করেন। এ কারণে পরিবারের কেউ এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে রাজি হননি। পরে কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রবিউল হক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ভাই ইউছুফ আলী ও মাহবুল হক ওরফে মাষ্টারকে গ্রেপ্তার করলে তাঁরা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

আদালতের ষ্টেনোগ্রাফার মাসুদ রানা বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একই থানার এসআই মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী মামলার তদন্ত শেষে চারজন আসামির বিরুদ্ধে একই বছরের ১২ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১৩ জন সাক্ষীকে পরীক্ষা করেন। দীর্ঘ শুনানী, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বড় ভাই মো. ইউছুফ আলী মানিককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অভিযোগপত্রভূক্ত একজন মৃতসহ বাকি তিন আসামিকে বেকুসুর খালাস দেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলী গুলজার আহমেদ জুয়েল। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালা করেন মো. আবদুল কাদের।