Sharing is caring!

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে অলভিয়া বন্দরে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলার ঘটনায় নিহত হাদিসুর রহমান নামে মরদেহ ইউক্রেন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তার এক সহকর্মী। এর আগে তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। হাদিসুরের বাড়ি বরগুনার বেতাগীর হোসনাবাদ ইউনিয়নে। তার মরদেহ দেশে আনার আকুতি জানায় তার পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) ইউক্রেনে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে আটকে থাকা ২৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ তথ্য জানান। জীবিত ২৮ নাবিককে উদ্ধারকালে তারা হাদিসুরের মরদেহও সঙ্গে নেন সহকর্মীরা। বাঙ্কারেও নিয়েছিলেন তার মরদেহ। জানা গেছে, ইউক্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকের সবাইকে নিয়ে যাওয়া হবে মলদোভা। সেখান থেকে তাদের আবার নিয়ে যাওয়া হবে রোমানিয়ায়। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, ওই নাবিকদের রোমানিয়ায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বুধবার ইউক্রেনে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধিতে রকেট হামলা হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজে থাকা নাবিকরা সবাই মিলে আগুন নেভায়। হামলায় জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ হাদিসুর রহমান আরিফ মারা যান। এর পরপরই জাহাজে থাকা নাবিকরা ভিডিও বার্তায় তাদের নিরাপদে উদ্ধারে আকুতি জানায়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে যায় এমভি সমৃদ্ধি। সিরামিকের কাঁচামাল নিয়ে ইতালির র‌্যাভেনা বন্দরে যাবার কথা ছিল জাহাজটির। বন্দরটিতে বিভিন্ন দেশের আরো প্রায় ২০টি জাহাজ আটকে আছে। তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেন শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা। শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজ।

Sharing is caring!